ব্রাসেলসে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি কে. এম. লোকমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লিংকন মোল্লা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নুর নবী, ব্যারিস্টার নিজুম মজুমদার, ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার এবং Hand in Hand Foundation-এর সেক্রেটারি জেনারেল জনাব গোলাম জিলানি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকী; সহ-সভাপতি সুনাম উদ্দিন খালেক, হাফিজ আলম ও নরুল আবেদীন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামি দাশ ও অধীর সূত্রধর; সাংগঠনিক সম্পাদক তন্ময় শিকদার; সম্মানিত সদস্য মাহবুবুল হক কয়েছ, আনিসুর রহমান, আসবার আলী ইসকান্দার ও জিলুর রহমান; ফ্রান্স ছাত্রলীগের নেতা প্রসেনজিৎ শীল ও খালেদ আহমেদ; এবং শেখ হাসিনা সংগ্রাম পরিষদের সম্মানিত সভাপতি চুন্নু মালত।
এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার স্মরণ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলা, সংগ্রাম, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তনের নানা অধ্যায়কে স্মরণ করারও একটি উপলক্ষ।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, সেই পথচলায় এসেছে বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রতিকূলতা ও পরীক্ষা। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে দলটির ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেই ইতিহাস শুধু গৌরবের নয়, দায়িত্ববোধেরও।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তি শুধু তার অতীতের অর্জনে নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জন, গণতান্ত্রিক চর্চা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং দেশের কল্যাণে নিরলস কাজ করার মধ্যেই নিহিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক বাস্তবতা আমাদের সামনে নতুন নতুন দায়িত্ব এনে দিয়েছে।
আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেইসব নেতাকর্মী, সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের, যাঁদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও নিষ্ঠা এই দীর্ঘ পথচলাকে সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করি—বাংলাদেশ আরও শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা। ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিয়ে, ঐক্য ও দায়িত্ববোধকে ধারণ করে, আগামীর বাংলাদেশ হোক আরও সম্ভাবনাময়—এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।