ভিনদেশী স্বাধীনতা উদযাপনের নামে প্রহসন
স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা অনুযায়ী ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করা আওয়ামী লীগ, কখনো ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান না করলেও, বিএনপি-জামায়াত ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মহাসমারোহে উদযাপন করেছে; তাও আবার খোদ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
এটা কি গোলামী না আজাদী? নাকি কলোনি? এটা কি কোন কুটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে? এটা যদি হতো আমেরিকান দূতাবাসের অভ্যন্তরে এবং সেখানে ওনারা আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যেতেন, তাহলে কুটনৈতিক পরিভাষায় ন্যায্যতা পেতো। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা এবং সেখানে আমেরিকান সরকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারের অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করা কুটনৈতিক পরিভাষায় বন্ধুত্ব বলে না; বরং স্বেচ্ছায় উপনিবেশবাদকে আলিঙ্গন করাকে বুঝায়।

বিশ্বের কোথাও বন্ধুত্বের এমন নজির আছে কিনা আমার জানা নেই। আপনাদের কারো জানা থাকলে জানায়ে দিয়েন।
আসুন জেনে নিই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পৃথিবীর আর কোন কোন রাষ্ট্রের সরকার উদযাপন করে থাকে?
সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) অন্য কোনো রাষ্ট্রের সরকারি জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় না। এটি মূলত United States-এর জাতীয় দিবস।
তবে কিছু দেশের সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাত্রায় দিবসটি পালন বা স্বীকৃতি দেয়:
Philippines: দীর্ঘদিন ৪ জুলাইকে "Philippine Republic Day" বা স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হতো, কারণ ১৯৪৬ সালের ৪ জুলাই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে প্রধান স্বাধীনতা দিবস ১২ জুন হলেও, ৪ জুলাই এখনও কিছু সরকারি স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
Liberia: দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও মুক্ত আফ্রিকান-আমেরিকান বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর। তবে লাইবেরিয়ার স্বাধীনতা দিবস ২৬ জুলাই, ৪ জুলাই নয়। তবু যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—যেমন Japan, South Korea, Australia, United Kingdom, Canada—সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ৪ জুলাই উপলক্ষে সংবর্ধনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্মকর্তা বা মন্ত্রীরা প্রায়ই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
তবে এসব দেশের সরকার নিজেরা জাতীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে না।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে নিজস্ব সরকারি জাতীয় উৎসব হিসেবে নিয়মিত উদযাপন করে এমন অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র নেই। কিছু দেশ ঐতিহাসিক বা কূটনৈতিক কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করে, কিন্তু সেটি তাদের নিজস্ব জাতীয় দিবস হিসেবে নয়।
এক্ষেত্রে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার পৃথিবীতে একমাত্র দেশ হিসেবে অনন্য নজির স্থাপন করে দেখালো। তাহলে এখন আপনারাই বলুন, এটি কি দাসত্ব, বন্ধুত্ব নাকি কূটনৈতিক জ্ঞানের অন্তঃসার শূণ্যতা?
লেখক: অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম
কার্যকরী সদস্য ডবলিন আওয়ামী লীগ, আয়ারল্যান্ড